নিজস্ব প্রতিবেদক: সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সহ সভাপতি হাসিবুল ইহসান এর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা
৫ আগষ্ট পরবর্তী সময়ে ছাত্রলীগ সহ সভাপতি হাসিবুল ইহসান এর নামে পল্টন থানায় ছাত্র হত্যার অভিযোগে ও অগ্নিসংযোগ, ককটেল, বিষ্ফোরণ, গুলিবর্ষণ এর মত ঘটনার দায়ে মোকামঃ বিজ্ঞ চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ঢাকা।সূত্রঃ পিটিশন মামলা নং- ১১৭৮/২০২৫ ইং (পল্টন আমলী)
ধারাঃ৩২৫/৩২৬/৩০৭/১৪৯/১৪৮/১৪৭/১৪৩/১২০(খ)/৩৪/১০৯ দঃ বিঃ
এই মামলাটি মূলত বাংলাদেশ দন্ডবিধির (চবহধষ ঈড়ফব) বিভিন্ন ধারায় রজু করা হয়েছে। বিবাদী নং ৩৫ ও নং ৫৯ সহ পল্টন থানায় কয়েকটি মামলায় আসামী করা হয়। প্রধান অপরাধ ও সাজা এই মামলার সবচেয়ে গুরুতর ধারাগুলো হলো আঘাত ও হত্যার চেষ্টা সংক্রান্ত ধারা ৩০৭(হত্যার চেষ্টা): যদি কেউ কাউকে হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণ করে, তবে তার ১০ বছর পর্যন্ত কারাদন্ড। যদি এই আক্রমণে কেউ আহত হয়, তবে সাজা যাবজ্জীবন কারাদন্ড পর্যন্ত হতে পারে [১.৫.২, ১.৫.৩] ধারা ৩২৬(মারাত্মক অস্ত্র দিয়ে গুরুতর আঘাত): ধারালো বা বিপজ্জনক অস্ত্র দিয়ে কাউকে গুরুতর আহত করলে তার সাজা যাবজ্জীবন কারাদন্ড অথবা ১০ বছর পর্যন্ত কারাদন্ড। [১.৪.২] ধারা ৩২৫(গুরুতর আঘাত): ই”ছাকৃতভাবে হাড় ভাঙা বা শরীরের কোনো অঙ্গের গুরুতর ক্ষতি করলে ৭ বছর পর্যন্ত কারাদন্ড এবং [১.৩.১, ১.৭.১]
দলবদ্ধ অপরাধ ও ষড়যন্ত্রের ধারা এই ধারাগুলো অপরাধে সরাসরি অংশগ্রহণ বা সহযোগিতার জন্য যুক্ত করা হয়: ধারা ১৪৩, ১৪৭, ১৪৮ ও ১৪৯(বেআইনি সমাবেশ ও দাঙ্গা): বেআইনিভাবে দলবদ্ধ হয়ে দাঙ্গা করা বা অস্ত্রসহ সমাবেশে অংশ নেওয়ার জন্য ৬ মাস থেকে ৩ বছর পর্যন্ত কারাদন্ড হতে পারে [১.৬.২] ধারা ১৪৯ অনুযায়ী, সমাবেশের কোনো সদস্য অপরাধ করলে দলের সবাই সমানভাবে দোষী সাব্যস্ত হতে পারেন [১.৬.৪] ধারা ১২০(খ) (অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র): কোনো অপরাধ করার জন্য গোপন পরিকল্পনা বা ষড়যন্ত্র করলে মূল অপরাধের সাজার সমান বা নির্দিষ্ট মেয়াদে সাজা হয় [১.৬.৬] ধারা ১০৯ (প্ররোচনা):
কেউ যদি অন্য কাউকে অপরাধ করতে সাহায্য বা উসকানি দেয়, তবে তাকেও মূল অপরাধীর সমান সাজা দেওয়া হয় [১.৬.৫] ধারা ৩৪(সাধারণ অভিপ্রায়): বেশ কয়েকজন মিলে একই উদ্দেশ্যে কোনো অপরাধ করলে প্রত্যেকেই সেই কাজের জন্য সমানভাবে দায়ী হবেন। তার নেতৃত্বাধীন পল্টন এলাকায় বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রম ঘটে ও ২০২৪ সালের ৩১ জুলাই তার সহযোগীতায় কয়েকজন কর্মী ছাত্রদের উপর হামলা করে ঐই হামলায় সম্পূর্ণ নেতৃত্ব দেয় ছাত্রলীগের সহ সভাপতি হাসিবুল ইহসান। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিকুব্ধ ছাত্র জনতা তার নামে বিভিন্ন প্লেকার্ড ও পোস্টার টানিয়ে মিছিল করে ও তাকে হত্যার হুমকি দেয়।
তার ঘনিষ্ট কয়েকজন কর্মীর কাছ থেকে জানা যায় তার সাথে সবসময় বিভিন্ন অস্ত্র থাকত। তাছাড়া স্থানীয় জনগনের ভাষ্যমতে জানা যায় এই এলাকার মানুষ কুলাঙ্গার ছাত্রলীগের সহ সভাপতি হাসিবুল ইহসানের কারনে তারা শান্তিমত এলাকায় বসবাস করতে পারে না। সে বিভিন্ন সময় এসে তাদের বিভিন্ন ধরনে হুমকি প্রদান করত। ও তাদেরকে মারধরের ভয় দেখাত বিভিন্ন অস্ত্র দেখিয়ে। এমনকি ৫ আগষ্ট পরবর্তী সময়ে পল্টন এলাকায় আওয়ামী ছাত্রলীগের যত ধরনের কার্যক্রম হয়েছে সবগুলো মূলত এই কুখ্যাত সন্ত্রাসী হাসিবুল ইহসান এর নির্দেশনা মোতাবেকই অনেক অপরাধমূলক কর্মকান্ড হয়ে থাকে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বিক্ষুদ্ধ তৌহিদি জনতা তার অনেক কর্মীকে গনিিপটুনি দিয়ে হত্যা করে।
এসময় যদি তাকে পাওয়া যেত তাহলে তাকে ও হত্যা করা হতো। এমনকি এখন ও তাকে পেলে হত্যার আশংকা রয়েছে।
সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, চাঁদাবাজি এবং বিগত আন্দোলনের সময় ছাত্র জনতা ও সাধারণ মানুষের ওপর সশস্ত্র হামলার অভিযোগে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পল্টন থানার সহ সভাপতি হাসিবুল ইহসান এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকাল রাতে থানায় ¯’ানীয় এক ভুক্তভোগী বাদী হয়ে এই মামলাটি করেন।
ঘটনার বিবরণ: মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পল্টন থানার সহ সভাপতি হাসিবুল ইহসান দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষের জমি দখল এবং ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অংকের চাঁদা আদায় করে আসছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, গত বছরের আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে তিনি এলাকায় সশস্ত্র মহড়া দেন এবং আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণ করেন। ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর তিনি এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান।
স্থানীয়দের বক্তব্য: এলাকার সাধারণ মানুষ জানান, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পল্টন থানার সহ সভাপতি হাসিবুল ইহসান এবং তার সহযোগীদের নির্যাতনে তারা অতিষ্ঠ ছিলেন। একজন ভুক্তভোগী বলেন, রাজনীতির দাপটে তিনি এলাকায় এক ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। কেউ তার প্রতিতবাদ করলে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করা হতো এবং পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হতো।”
পুলিশের বক্তব্য: এ বিষয়ে পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “সন্ত্রাসবাদ এবং সাধারণ মানুষের ওপর হামলার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। আমরা বিষয়টি গুরত্বের সাথে তদন্ত করছি এবং অভিযুক্তকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।”
বর্তমানে অভিযুক্ত ওই আওয়ামী লীগ কর্মীর বাড়িতে তালা ঝুলছে এবং তার পরিবারের অন্য সদস্যরাও আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে।