দৈনিক ঢাকার বাংলাদেশ : এটিএম ফয়ছল সিলেট থেকে: সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার পথে বড় অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলেছে। সিলেট শহর থেকে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র জাফলং পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে ট্রেনে করেই জাফলং যেতে পারবেন পর্যটকরা।
গত বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের ফল উৎসব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ তথ্য জানান প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী এবং সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য আরিফুল হক চৌধুরী।
মন্ত্রী বলেন, সিলেট-জাফলং রেললাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ খুব শিগগিরই শুরু হচ্ছে। চলতি মাসেই রেলওয়ের প্রকৌশলীরা সিলেটে এসে সম্ভাব্য রুট পরিদর্শন করবেন। এরপর পরিচালিত হবে বিস্তারিত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (ফিজিবিলিটি স্টাডি)।
তার ভাষ্য, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শুধু পর্যটনই নয়, ব্যবসা-বাণিজ্যেও নতুন গতি আসবে। বিশেষ করে জাফলং অঞ্চল থেকে পাথরসহ বিভিন্ন পণ্য স্বল্প খরচে ট্রেনে পরিবহন করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি দেশ-বিদেশের পর্যটকদের যাতায়াত হবে আরও সহজ, নিরাপদ ও আরামদায়ক।
অনুষ্ঠানে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার কাজ নিয়েও কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতার কারণে প্রকল্পের কাজ পিছিয়ে ছিল। সম্প্রতি ভূমি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে অতিরিক্ত সার্ভেয়ার নিয়োগের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফলে ভূমি অধিগ্রহণের কাজ দ্রুত শেষ করে মহাসড়কের নির্মাণকাজ পুরোদমে এগিয়ে নেওয়া হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এছাড়া জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ এলাকার যেকোনো একটি স্থানে আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে জানান মন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, জাফলং, রাতারগুল, বিছানাকান্দিসহ সিলেটের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকদের সুবিধার জন্য আধুনিক ওয়াশব্লক নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি এসব এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নে একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষক সংকট নিরসনেও সরকার উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রস্তাবিত রেললাইন বাস্তবায়িত হলে সিলেটের পর্যটন শিল্প, স্থানীয় অর্থনীতি এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।